0

মেথি আমাদের দেশে অনেক পরিচিত একটি নাম। এটি স্বাদে তিতা হলেও আমাদের শরীরের অনেক উপকারে আসে। প্রাচীনকাল থেকেই ভেষজ চিকিৎসক ও আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে মেথির ব্যবহার বহুল পরিচিত। নানা রোগ-বালাই থেকে মুক্তি লাভে মেথি অনেক কার্যকর। এটি একই সাথে মসলা, খাদ্য ও পথ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া রূপচর্চায়ও মেথির নানা ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। মেথির এসকল বহুবিধ ব্যবহার একে অন্যতম সুপার ফুড হিসেবে খ্যাতি অর্জন করতে ব্যাপক সহায়তা করেছে। চলুন জেনে নেয়া যাক আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এই অন্যতম সুপার ফুডের ভূমিকা সম্পর্কে।

মেথির পুষ্টি উপাদান

মেথিতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ম্যাগনেশিয়াম আছে। এ ছাড়া এতে অল্প পরিমাণে কোলিন, ইনোসিটল, বায়োটিন, বি-ভিটামিনস, জিংক, পটাশিয়াম, সেলেনিয়াম, ফোলেট, ফসফরাস ছাড়াও আইসোলিউসিন নামক এমাইনো অ্যাসিড আছে।

মেথির উপকারিতা

নিচে মেথির বিশেষ সাতটি উপকারী দিক তুলে ধরা হল –

১। ওজন হ্রাস করে

মেথি প্রাকৃতিক ফাইবার থেকে জন্ম বলে তা ওজন কমাতে কার্যকরী। তাই শরীরের ওজন কমাতে অনেকেই ডায়েটে মেথি রাখে। নিয়মিত এক গ্লাস পরিমাণ গরম পানিতে এক চা চামচ মেথিগুঁড়া ভালভাবে মিশিয়ে খেলে দেখবেন যে আপনার ওজন দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। মেদ এবং ওজন কমাতে মেথির জুড়ি নেই।

২। বদহজম ও অ্যাসিডিটি নিরাময় করে

মেথি অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট ও ফাইবার সমৃদ্ধ যা শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন দূর করতে সহায়তা করে। এটি বুকে বা পেটের ওপরের দিকে এসিডের প্রদাহ থেকে মুক্তি দেয়। পাশাপাশি বদহজমের সমস্যাও দূর করে। পেট ও পাকস্থলীর যাবতীয় সমস্যা দূর করতে মেথি গুঁড়া মেশানো পানি নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস গড়ুন।

৩। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে

ডায়াবেটিক রোগীদের মেথি এক প্রকার শ্রেষ্ঠ পথ্য। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ডায়াবেটিসের রোগীরা নিয়মিত মেথি খেলে তাদের রক্তে চিনির মাত্রা কমে যায়, ডায়াবেটিসজনিত রোগ কম হয় এবং স্ট্রোক হওয়ার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম থাকে। মেথিতে বিদ্যমান গ্যালাক্টোম্যানানের প্রভাবে দেহে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং খুব সহজে বাড়তে পারে না। সেই সঙ্গে মেথির অ্যামাইনো অ্যাসিড অগ্ন্যাশয়ে ইনসুলিন ক্ষরণে ব্যাপক সহায়তা করে। এতে দেহে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যায়। ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৪। জ্বর ও সর্দি-কাশি ভাল করে

জ্বর থেকে মুক্তি পেতে লেবুর রস ও মধুর সাথে এক টেবিল চামচ মেথি গুঁড়া মিশিয়ে খাওয়া শুরু করুন। মেথিতে মুসিলেজ নামের এক ধরনের যৌগ রয়েছে যা গলার খুসখুসে ভাব দূর করে সর্দি-কাশি ভাল করে।

৫। ঋতুস্রাবের কষ্ট কমায়

ঋতুস্রাবের সময় মহিলাদের মেথি খাওয়ার প্রচলন বহুকাল আগে থেকেই। মেথিতে থাকা যৌগ এই সময়কার পেটের যন্ত্রণা কমাতে খুবই কার্যকর। এছাড়া নারীদের স্বাস্থ্যগত বিষয়েও এর অনেক উপকারিতা রয়েছে। মেথিতে রয়েছে সাইটো-ইস্ট্রোজেন, যা নারীদেহে প্রোলাকটিন নামের হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই হরমোন নারীদেহকে সুগঠিত করে তুলতে সাহায্য করে।

৬। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়

রূপচর্চায় মেথির ভূমিকা অপরিসীম। মেথিতে বিদ্যমান ভিটামিন সি ও ভিটামিন কে ত্বকের ছোপ ছোপ দাগ এবং বয়সের রেখা দূর করতে সহায়তা করে। এক চামচ মেথিগুঁড়াকে দুধের সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে সেটিকে ফেসিয়াল মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করে কিছুক্ষণ রেখে ভাল করে মুখ ধুয়ে নিন। নিয়মিত এই পেস্টটি ব্যবহারে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।

৭। চুলপড়া ও অকালপক্বতা রোধ করে

স্বাস্থ্যহীন চুলের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে মেথি অনেক উপকারী। নারিকেল তেলের মেথি গুঁড়া মিশিয়ে চুলে মাখলে চুল পরা বন্ধ হয়।। অকালে চুল পাকার হার কমাতেও মেথি খুব কার্যকর। আমলার রসের সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণ মেথি গুঁড়া মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে গোসলের এক ঘণ্টা আগে স্ক্যাল্প ও চুলে ভাল করে লাগিয়ে নিন। তারপর হাল্কা শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন। এতে চুলের অকালপক্বতা রোধ হবে।

পরিশেষে

মেথিকে এর বহুবিধ ব্যবহারের কারণে সুপার ফুড বলা হয়ে থাকে। এটি স্বাদ ও সুগন্ধির জন্য খাবারে ব্যবহার করা যায়। উজ্জ্বল ত্বক ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুলের জন্য ব্যবহার করা যায়। আবার পথ্য হিসেবে নানা রোগ-বালাই থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যও ব্যবহার করা যায়। এর এসকল নানান গুণের কারণে এটিকে অন্যতম সুপার ফুড বলা হয়। তাই সুস্থ থাকতে নিয়মিত মেথি খাওয়া উচিত। এক্ষেত্রে ভরসা রাখতে পারেন ন্যাচারালস মেথি গুঁড়ায়। যা সরাসরি প্রকৃতি থেকে সংগ্রহ করে কোন প্রকার প্রিজারভেটিভ ছাড়াই স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে প্রস্তুত করা হয়। তাই আপনার ও আপনার পরিবারের সুস্বাস্থ্যে ন্যাচারালস মেথি গুঁড়া খাওয়ার অভ্যাস গড়ুন।

#সুস্বাস্থ্য_মানেই_ন্যাচারালস

Leave a Comment

Your email address will not be published.

TOP

X