0

ভোজন রসিক বাঙ্গালী জাতিকে বলা হয় মাছে-ভাতে বাঙালী আর মাছ এবং ভাতের কথা আসলেই জিভে আসে জল। ভোজনের পাল্লায় পড়ে আমরা প্রায়সই ভুলেই যাই ভোজনেই ওজন। আর বাড়তি ওজন মানেই বাড়তি ঝুঁকি।

বর্তমানে স্থুলতা একটি বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এমনটা দাবি করেছে ম্যাকেঞ্জি গ্লোবাল ইনস্টিটিউট। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর ২.১ বিলিয়ন বা ২১০ কোটি মানুষ স্থুলতা সমস্যায় ভুগছেন। অবাক করা ব্যাপার হলো বর্তমান বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় শতকরা ৩০ ভাগ মানুষই স্থুলকায়। আর এই ধারাবাহিকতা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে ২০৩০ সালে বিশ্বে প্রায় ৪১ ভাগ মানুষ স্থুলতা সমস্যায় ভুগবেন বলে আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমানে যারা শারীরিক ওজন নিয়ে চিন্তায় আছেন তাদের জন্য রয়েছে চমকপ্রদ কিছু টিপস। আজ আমরা জানবো কিভাবে প্রতিদিন রুটিন মাফিক ব্যায়াম আর খাবার নিয়ন্ত্রন করেই নিজের ওজন তরতরিয়ে কমিয়ে ফেলা যায়।

আমাদের যদি এই স্থুলতার বিপক্ষে লড়াই করতে হয় তবে সর্বপ্রথমে আমাদের জানতে হবে স্থুলতা বা মোটা হওয়ার মূল কারণগুলো। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক স্থুলতা বা মোটা হওয়ার উল্লেখযোগ্য কারণগুলোঃ

  • অতি ভোজনই অতি ওজন। চাহিদার অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ মোটা হওয়া বা ওজন বাড়ার অন্যতম একটি কারণ।
  • কায়িক শ্রমবিহীন অলস জীবন মোটা হওয়ার অন্যতম কারণ।
  • অনেক সময় কারো-কারো জেনেটিক বা বংশগত কারণেই মোটা হওয়ার ধাত তৈরি হয়।
  • কোমল পানীয়, ফাস্ট ফুড, অ্যালকোহল, এনার্জি ড্রিংকস ইত্যাদি মোটা হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
  • অনেকদিন যাবৎ কিছু-কিছু ওষুধ ব্যবহার বা সেবণের ফলে মোটা হওয়ার প্রবণতা থাকে। যেমনঃ স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ।

স্থুলতা বা মোটা হওয়ার কারণ গুলো জানার পরপরই আমাদের আসলে জানতে হবে কিভাবে আমরা এই ওজন কমাতে পারি; তো চলুন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে আমরা অতিরিক্ত মেদ কমাতে পারি?

অতিরিক্ত মেদ কমানোর চর্চাসমূহঃ

  • সবার প্রথমে আমাদের উচিত খাদ্য গ্রহনে নজর দেওয়া। ওজন সীমিত রাখতে পরিমিত খাবার খাওয়ার কোন বিকল্প নেয়।
  • সবসময় কম ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে, ফাস্ট ফুড বা জাঙ্ক ফুড জাতীয় খাদ্য এবং সেই সাথে বাইরের খাবার পরিত্যাগ করতে হবে।
  • অতিরিক্ত শর্করা, চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা। যেকোনো উৎসবেও পরিমিত পরিমাণে খাবার গ্রহণ করা।
  • সব সময় মনে রাখতে হবে, দ্রুত বা তাড়াহুড়ো করে কখনোই ওজন কমানো সম্ভব নয়। ওজন কমাতে প্রতিনিয়ত নিয়মমাফিক ধৈর্য্য সহকারে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
  • প্রতি বেলার খাবারের সাথে সালাদ ও ফল খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে । এতে ক্ষুধা কম লাগে যা ওজন নিয়ন্ত্রনে সহায়তা করে।
  • লেবুর রস ও টক দই মেদ কমাতে সাহায্য করে । তাই হালকা এক কাপ গরম পানিতে ১ চা চামচ লেবুর রস ও ১ চিমটি লবন মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালিপেটে খাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
  • রাতের বেলা অপেক্ষাকৃত হালকা খাবার খাওয়া উচিত তবে না খেয়ে থাকা ভাল কোন চর্চা নয়।
  • নিয়ম মেনে প্রতিদিন পরিশ্রম করতে হবে যাতে বাড়তি চর্বি পোড়ানো যায়। চর্বি গলানোর জন্য প্রতিদিন হাঁটা, লিফটে না চড়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠা এবং নামা, অল্প দূরত্বে গাড়ি বা রিকশায় না চড়ে হেঁটে চলার অভ্যাস করা যেতে পারে। প্রতিদিনের এই ছোট-ছোট কাজগুলো শরীরের মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। সম্ভব হলে সাঁতার কাটা, সাইক্লিং, জগিং ইত্যাদি ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়ামগুলো করার অভ্যাস করা যেতে পারে। সুযোগ থাকলে ওজন কমানোর জন্য জিমে ও যেতে পারেন।

প্রাকৃতিকভাবে ওজন কমাতে ন্যাচারালস ওয়েট লস প্যাকের উপকারিতা জানতে এখানে ক্লিক করুন

ওজন কমানোর শারীরিক সুফলগুলো হলোঃ

১. ভালো ঘুম এবং ঠান্ডা মেজাজ লাভ হয়।

২. হরমোনে ভালো ভারসাম্য আসে এবং সেক্স ড্রাইভ উন্নত হয়।

৩. হাঁড় ও জয়েন্ট-এর ব্যথা নিরাময় হয় সেই সাথে ত্বক পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল হয়।

৪. আপনি আরও দুঃসাহসিক এবং এডভেঞ্চার প্রিয় হয়ে উঠেন।

৫. আপনি এই সময় নিজেকে এবং অন্যদের আরও সম্মান করবেন সেই সাথে নিজে আরও সুসংগঠিত হবেন।

৬. আপনার মনোযোগ বৃদ্ধি পায়

৭. হার্ট সুস্থ থাকে এবং সেই সাথে শরীরের রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়।

৮. ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ এর মত সমস্যা গুলো এড়িয়ে চলা যায়

সর্বপরি আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখার কোন বিকল্প নেই এবং প্রতিদিন রুটিন মাফিক ব্যায়াম আর খাবার নিয়ন্ত্রন করলেই আমরা আমাদের বাড়তি মেদ ঝড়িয়ে ফেলতে পারবো। একটু ধৈর্য্য ধরে নিয়ম মতো চললে এবং পাশাপাশি ন্যাচারালস ওয়েট লস প্যাকের নিয়মিত ব্যবহারে আপনার স্থুলতা সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

TOP

X